দাদার সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো ছোট্ট মাওয়া

পাঁচ বছর বয়সী আদরের নাতনি জান্নাতুল মাওয়াকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরে বোনের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন ফয়জার রহমান (৬৫)। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বোনের পরিবারের লোকজনদের দাওয়াত দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। কথা ছিল দু-একদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু তার আগেই ফিরতে হচ্ছে বাড়িতে। তবে লাশ হয়ে, সঙ্গে আদরের নাতনিকে নিয়ে।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ শরেয়ারতল এলাকায় রংপুর-পীরগাছা সড়কে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে মারা যান ফয়জার রহমান ও মাওয়াসহ পাঁচজন। তারা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

ফয়জার রহমানের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক বেলকা গ্রামে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। সেইসঙ্গে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় তার বেশ পরিচিতিও ছিল। ফয়জার রহমানের তিন ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় ছেলে রেজওয়ানুর রহমান মিঠুর বড় মেয়ে নিহত জান্নাতুল মাওয়া।

মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। এসময় নিহত ফয়জার রহমানের নাতি আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে জানান, নানা ফয়জার রহমান তার মেজো ছেলের বড় মেয়ে জান্নাতুল মাওয়াকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরে বোনের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন।

রেজওয়ানুর রহমান মিঠু ঢাকায় ফার্নিচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্ত্রী সুমী আক্তার গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মাওয়ার পাঁচ মাস বয়সী এক ছোট বোন আছে। এবার ঈদে বাড়িতে আসার কথা ছিল মিঠুর। অনেক দিন পর বাবাকে কাছে পাবে এ অপেক্ষায় থাকতো মাওয়া। তবে বাবা বাড়ি আসার আগেই সে পাড়ি জমালো পরপাড়ে।

এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার দুদিয়াবাড়ি পালপাড়া গ্রামের তরুণী পাল (৫৫)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তরুণী। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আট বছর আগে। মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানিয়ে একমাত্র ছেলে ও স্ত্রী বাসনা রানীকে নিয়ে ছিল তার সংসার।

তরুণী পালের ছেলে সঞ্জয় পাল জাগো নিউজকে জানান, তার বাবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রংপুরের দিকে কেন যাচ্ছিলেন তা জানতে পারেননি। দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে মরদেহ দেখতে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। দুর্ঘটনায় নিহত অন্য দুজন হলেন, অটোরিকশাচালক রাজা মিয়া (৪৬) ও অজ্ঞাত এক নারী (৪৫ )।

রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মাসুদ উল আলম জানান, ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে পীরগাছার চৌধুরাণী থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি রংপুরে আসছিল। অপরদিকে রংপুর থেকে ডাম্পট্রাকটি পীরগাছার দিকে যাচ্ছিল। তারা শরেয়ারতল এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রাকের চাপায় অটোচালকসহ ঘটনাস্থলে দুইজন প্রাণ হারান।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চালকসহ ডাম্পট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.