ইসি গঠনে চমক আসছে

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষ হয়েছে। যেকোনো সময় সার্চ কমিটি গঠিত হতে পারে বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন করেছে, এটি জাতীয় সংসদে একটি বিল আকারে উপস্থাপিত হবে।

এই বিলটি পাশ হোক না হোক, সার্চ কমিটির মাধ্যমেই যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হচ্ছে তা নিয়ে কোন সংশয় নেই। কারণ, যে প্রস্তাবিত বিল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে সেই বিলও সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। সার্চ কমিটির অবয়ব সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা গতবার বা তার আগেরবারের সার্চ কমিটিরই অনুরূপ।

এই সার্চ কমিটি গঠিত হবে প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে, সেখানে সরকারি কর্ম কমিশনের একজন সদস্য, মহা হিসাবরক্ষক এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুইজন ব্যক্তি। আর এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব এখানে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। গতবারও ঠিক এই অবয়বে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সার্চ কমিটিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত যে ব্যক্তি দুজন থাকবেন তাদের বয়স ৫০ ঊর্ধ্ব হতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে তাদের ২০ বছর তা তার বেশি সময় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ যেটিকে আগে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে করা হত সেটিকেই এখন আইনের আবরণ দেয়া হচ্ছে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সার্চ কমিটি কিছু না, নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকার চমক দেবে। আগামী নির্বাচন নানা দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে এই নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপি-জামায়াতগোষ্ঠী চাইবে যে, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। আর সেই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ নয় এই ইস্যুটিকে সামনে আনতে চাইবে। আর এ কারণেই সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনে চমক দেখাতে চায়।

সার্চ কমিটির মাধ্যমে এমনকিছু ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে আনতে চায়, যারা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং এমন একটি নির্বাচন কমিশনের নাম প্রস্তাব করা হবে যেটির বিরোধিতা করে তেমন জনসমর্থন পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য এরকম ব্যক্তিদেরকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন সার্চ কমিটির মাধ্যমেই হোক অথবা নতুন আইনের মাধ্যমেই হোক, সার্চ কমিটি একাধিক ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের জন্য তার পছন্দ জানাবেন সরকারকে এবং সেই অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

সার্চ কমিটি যে নামগুলো প্রস্তাব করবে, সেখানে যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি থাকে সেটা নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করবে। আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলছেন যে, আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির সংখ্যা নেহায়েত কম না এবং এরকম যোগ্য ব্যক্তিও আমাদের সমাজে রয়েছে। তাদের কারো কারো নাম এই সার্চ কমিটিতে প্রস্তাব করা হবে। শুধুমাত্র সরকারের আনুগত্য দেখা হবে না, বরং সমাজে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সৎ, নিষ্ঠাবান এবং নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদেরকে এবারের নির্বাচন কমিশনে দেখা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকার চাইছে না যে, নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হোক এবং শুরুতেই নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের সুযোগ পায়। আর এ কারণেই ইসি গঠনে একটি বড় ধরনের চমক আসবে বলে অনেকে মনে করছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, এমন ইসি গঠিত হবে যা নিয়ে বিরোধিতা করার কোন সুযোগই পাবে না বিরোধী দলগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.