৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ শিগগিরই

পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই ৩৮ হাজার শিক্ষকের সুপারিশপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে নিয়োগ প্রত্যাশীদের জন্য কিছু শর্তও জুড়ে দেয়া হয়েছে। এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর বিলম্ব করতে চাইছে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব ওবাইদুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, খুব শিগগিরই শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলাফল বুধবার জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, সবাইকে একসঙ্গেই নিয়োগের জন্য সুপারিশপত্র দেয়া হবে।

এদিকে, নিয়োগপ্রত্যাশীরা বলছেন, ভেরিফিকেশন কতবার হবে? অনেকে বলছেন একবার আবার অনেকে বলছেন একাধিকবার। এ বিষয়ে সংশয় দূর করেছেন সচিব ওবাইদুর রহমান। বাংলাদেশ জার্নালকে তিনি বলেন, যেই ব্যক্তির ভেরিফিকেশন হয়ে গেছে, তার আর করা হবে না। যাদেরটা বাকি আছে তাদের বিষয়েই সরকারি সংস্থা ভেরিফিকেশন করবে। যদি কারও রিপোর্ট খারাপ হয় তখন তার নিয়োগ বাতিল করা হবে।

মূলত শিক্ষকদের চাকরিতে যোগদানের জন্য এবারই প্রথম পুলিশ ভেরিফিকেশন চালু করা হয়েছে। এ বিষয়ে এনটিআরসিএর দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভেরিফিকেশন করছে সরকারের দুটি সংস্থা। একটি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ অন্যটি এনএসআই। দুটি বাহিনীর হাতেই ভেরিফিকেশনের ফরম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা শাখা থেকে পৌছে গেছে। এনএসআই তদন্তের কাজ পরে শুরু করেছে। পুলিশের ভেরিফিকেশ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এর আগে সোমবার ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি এসব শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি কার্যকর করতে ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে এ নিয়োগে কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএর সচিব মো. ওবাইদুর রহমান।

শর্তগুলো হলো

নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি কর্তৃক ভেরিফিকেশনে কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে অবিলম্বে ওই সুপারিশপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

বিরূপ মন্তব্যসম্পন্ন শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রার্থীকে জানাতে হবে।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মার্চ শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ১৫ জুলাই প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ফল ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণার প্রায় ছয় মাসেও যোগদান সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান। এসব প্রার্থী বারবার তাদের দ্রুত যোগদান করানোর দাবি জানাচ্ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সম্মতির বিষয়টি জানার পর প্রার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত সুপারিশপত্র জারি করে তাদের যোগদানের ব্যবস্থা করার জন্য এনটিআরসিএর প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.