এবারের বিপিএলে থাকছে না ডিআরএস

২১ জানুয়ারি পর্দা উঠছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল)। বিপিএলের প্রতি আসরের আগেই বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহারের আশ্বাস দেয়া হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে। সব আশ্বাস পূরণ করা সম্ভব না হলেও টুর্নামেন্টের মান বজায় রাখতে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম ও জিঙ্ক বেলের ব্যবহার নিয়মিতই করে আসছে বিসিবি।

যদিও এবারের আসরে কিছুটা হতাশ হতে হবে দর্শকদের। কারণ এবারের বিপিএলে থাকছে না ডিআরএস। করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় ডিআরএসের সুবিধা প্রদান করা প্রতিষ্ঠান হক আইয়ের স্টাফদের কেউ বাংলাদেশে আসতে পারছেন না। এর ফলে ডিআরএস থাকছে না বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টে।

এ প্রসঙ্গে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা রাখতে পারছি না ডিআরএস। এখন ওরা (টেকনিশিয়ানরা) কেউ ফ্লাই করতে পারছে না। ওদের দুইটা টিম এখন দুই দেশে আছে, সেখান থেকে এই অবস্থায় বাংলাদেশে আসতে পারবে না। ডিআরএসের সোর্স সারাবিশ্বে একটাই (হক-আই কোম্পানি)। ওরাই দেয় সব জায়গায়। ওমিক্রনের কারণে কেউ আসতে চাচ্ছে না। বিপিএলের পর আফগানিস্তান সিরিজ। সেটিতেও রাখতে পারব কিনা, সেটাও কথা বলতে হচ্ছে।’

বিপিএলের সর্বশেষ সংস্করণে শুরু থেকেই ডিআরএস থাকলেও শুরুতে ছিল না আল্ট্রাএজ প্রযুক্তি। এর ফলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বিপিএলের আয়োজকদের। এবার থাকছে না ডিআরএসের কোনো সুবিধাই। যদিও এই বিষয়গুলো দ্রুতই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মল্লিক।

তিনি বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তো আসলে আলোচনার কিছু নেই। ডিআরএস পাইনি, তাদেরকে জানিয়ে দেব। আর শুধু বিপিএলে তো নয়, আন্তর্জাতিক সিরিজেও ভুল সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও আম্পায়াররা আমাদের ৪-৫টা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটা গোটা বিশ্বেই হয়। সবাইকে তা বুঝতে হবে।’

প্রতিবারই বিপিএলের সম্প্রচারের মান ও মানসম্পন্ন ধারাভাষ্যকারের অভাবের কারণেও সমালোচকদের রোষানলে পড়তে হয় আয়োজকদের। এবার বিদেশি ধারাভাষ্যকার থাকলেও দেশি তরুণ ধারাভাষ্যকারদের প্রাধান্য থাকবে এবারের বিপিএলে।

এ প্রসঙ্গে মল্লিক বলেন, ‘আমরা তো স্থানীয়দের ওপর ফোকাস বেশি করতে চাই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তো বটেই, বিপিএলেও। এখন আমরা স্থানীয় তরুণ কিছু ধারাভাষ্যকারকে প্রমোট করার চেষ্টা করছি। অন্তত ৫০ ভাগ ধারাভাষ্যকার আমরা স্থানীয় রাখতে চাই। এটা আমাদের চাওয়া, পুরোটাই বিদেশি ভালো ধারাভাষ্যকার রাখার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা চাই স্থানীয়দের স্লট যেন অর্ধেক থাকে।’

বিপিএলের এবারের আসরের সম্প্রচার নিয়ে আশার বাণী শোনালেন বিসিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা। ২৬-২৭ টি ক্যামেরায় বিপিএল সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রোডাকশন ভালো করার চেষ্টা করা হবে। প্রতিবারই ২৬-২৭টি ক্যামেরা থাকে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের চেয়ে বেশি থাকে, এবারও থাকবে। অতীতে গ্রাফিক্স নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এবার সতর্ক থাকার চেষ্টা করা হবে। ওভারঅল প্রোডাকশন লেভেল ভালো হবে আশা করি। ডিআরএস না থাকলে তো বড় ঘাটতি থাকেই। তবে অন্যান্য সব প্রযুক্তি, ড্রোন বা যা থাকে, সব থাকবে।’

About Running News

Check Also

মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন, উড়িয়ে দিলেন ঢাকার কোচ

তিন দিন বাদেই শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসর। দীর্ঘ দিন ধরে মাশরাফি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *