ব্রাজিলিয়ান-জাদুতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

রাফায়েল অগাস্তো পুরনো সৈনিক। তার সঙ্গে এবার যোগ দিয়েছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান দোরিয়েন্তল। প্রথম ম্যাচেই ঝলক দেখিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। স্বাধীনতা কাপে তাদের নৈপুণ্যে আবাহনী লিমিটেড উড়িয়ে দিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম সোসাইটিকে। দুই ব্রাজিলিয়ানের জাদুতে শুরুর ধাক্কা সামলে আবাহনী ৩-১ গোলে পুরান ঢাকার দলকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। দোরিয়েন্তলের জোড়া গোল, আর অগাস্তো একবার নাম তুলেছেন স্কোরশিটে। ১০ ডিসেম্বর সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র না আসায় আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি দোরিয়েন্তল। আজ (মঙ্গলবার) আবাহনীর জার্সিতে অভিষেক দারুণভাবে রাঙিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। অগাস্তোর কথা বিশেষ করে বলতেই হবে। কুশলী মিডফিল্ডার হিসেবে তার দৃষ্টিনন্দন পাস ও ড্রিবলিং ছিল দেখার মতো। আক্রমণের উৎসে ছিলেন তিনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা দানিয়েল কলিনদ্রেসও পরিশ্রম করে খেলেছেন। কিন্তু এই ম্যাচে বলার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। প্রথমার্ধে দলের সমন্বয় হতেই সময় লেগেছিল।

আর এই সুযোগে রহমতগঞ্জ দুই বিদেশি ডিফেন্ডার নিয়ে প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে এগিয়ে যায়। তাদের নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার তেতাই কয়েকবার ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন। রহমতগঞ্জের এগিয়ে যাওয়াও তার সহায়তায়।

১৪ মিনিটে স্কোরলাইন ১-০ আত্মঘাতী গোলে। আশরাফুলের থ্রু ধরে তেতাই বক্সে ঢুকলেও তার সঙ্গে সেঁটে ছিলেন আবাহনীর মোহাম্মদ হৃদয়। ধাক্কাধাক্কিতে হৃদয়ের পর তেতাই পড়ে যান। কিন্তু রেফারি বিটু রাজ ফাউলের বাঁশি বাজাননি। তেতাই উঠেই আরেক ডিফেন্ডার নুরুল নাইম ফয়সালের বাধা পেরিয়ে কাটব্যাক করেন, ৬ গজের মধ্যে থেকে এনামুল হোসেনের প্লেসিং আবাহনীর ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশার পায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।

দুই মিনিট পরই আবাহনী ম্যাচে ফিরে আসে। ১৬ মিনিটে কলিনদ্রেসকে বাধা দেন মোহাম্মদ তারেক। পেনাল্টি থেকে দোরিয়েন্তল জোরালো শটে গোল করেন। বলের লাইনে ঝাঁপালেও গোলকিপার জিয়াউর রহমান কিছুই করতে পারেননি।

৪২ মিনিটে রহমতগঞ্জ আবারও এগিয়ে যেতে পারতো। তেতাইয়ের শট ঠেকাতে গিয়ে বাদশার হাতে লাগে। পেনাল্টি থেকে তেতাইয়ের শট গোলকিপার প্রীতম বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন।

বিরতির পর আবাহনীর খেলায় ধার বাড়ে। ৪-২-৩-১ থেকে ৪-৩-৩ ছকে আরও আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে। দলের সমন্বয়টা হয়েছে জোরালো। দুই ব্রাজিলিয়ানের নৈপুণ্যে আরও দুটি গোল এসেছে।

৫১ মিনিটে আবাহনী এগিয়ে যায়। ইমন মাহমুদের থ্রুতে বাঁ দিকে অগাস্তো একে একে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করলে ৬ গজ দূরত্বে দোরিয়েন্তল ব্যাকহিল করে জাল কাঁপান। এক ডিফেন্ডার সেঁটে থাকলেও কিছুই করতে পারেননি।

গোলের ক্ষুধা আরও বেড়ে যায় আবাহনীর। ৭০ মিনিটে রহমতগঞ্জকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় মারিও লেমসের দল। গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। অগাস্তোকে পায়ে আঘাত করে ফেলে দেন সানোয়ার হোসেন। স্পট কিক দোরিয়েন্তল নিলে হয়তো হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকতো। কিন্তু তিনি নেননি। অগাস্তো দেখেশুনে গোলকিপারের বিপরীত দিক দিয়ে জাল কাঁপান।

বাকি সময় আবাহনীর আধিপত্য থাকলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। দুই ম্যাচে হেরে রহমতগঞ্জ বিদায় নিয়েছে। এই গ্রুপ থেকে আবাহনীর সঙ্গে শেষ আটে উঠে গেছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ।

About Running News

Check Also

মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন, উড়িয়ে দিলেন ঢাকার কোচ

তিন দিন বাদেই শুরু হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম আসর। দীর্ঘ দিন ধরে মাশরাফি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *